গাইড

লয়্যালটি কার্ড কীভাবে বানাবো: তোমার দোকানের ডিজিটাল কার্ড, ধাপে ধাপে

লয়্যালটি কার্ড কীভাবে বানাবো, কোনো প্রযুক্তিজ্ঞান ছাড়াই: ধরন বাছো, পুরস্কারের খরচ হিসাব করো, ডিজাইন করো, QR পোস্টার প্রিন্ট করো আর স্ট্যাম্প দেওয়া শুরু করো।

লিখেছে Stampaz টিম6 মিনিটে পড়ুন

এই লেখায়
  1. 01শুরু করতে কী লাগবে (প্রযুক্তির কিছুই না)
  2. 02ধাপ ১: কার্ডের ধরন বাছো
  3. 03ধাপ ২: নিয়ম আর পুরস্কার ঠিক করো (হিসাবসহ)
  4. 04ধাপ ৩: কার্ড ডিজাইন করো
  5. 05ধাপ ৪: QR পোস্টার আর কোথায় লাগাবে
  6. 06ধাপ ৫: তোমার টিম কীভাবে ব্যবহার করবে
  7. 07প্রথম দুই সপ্তাহ: কাউন্টারে কী বলবে
  8. 08সাধারণ ভুল
  9. 09চালুর আগের চেকলিস্ট

শুরু করতে কী লাগবে (প্রযুক্তির কিছুই না)

লয়্যালটি কার্ড কীভাবে বানাবো, এটা যতটা কঠিন মনে হয় ততটা নয়। নিজের অ্যাপ লাগবে না, প্রোগ্রামার লাগবে না, কাউন্টারে নতুন যন্ত্রও না। লাগবে তিনটা জিনিস:

  • পুরস্কারের পরিষ্কার ধারণা, আর তাতে তোমার কত খরচ।
  • তোমার লোগো (ফাইল না থাকলে সাইনবোর্ডের ছবিও চলবে) আর ব্র্যান্ডের এক-দুটো রং।
  • কাউন্টারে একটা ফোন, যাতে স্টাফ গ্রাহকের কার্ড স্ক্যান করতে পারে।

গ্রাহকেরও বিশেষ কিছু লাগে না। কার্ড থাকে Apple Wallet (iPhone) বা Google Wallet (Android)-এ, যা ফোনে আগে থেকেই থাকে। দুটো কীভাবে চলে, দেখো apple wallet loyalty card বাংলা আর google wallet loyalty card বাংলা গাইডে।

এখনও ঠিক করতে না পারলে কাগজের কার্ড রাখবে নাকি ফোনে যাবে, আগে পড়ো কাগজের না ডিজিটাল কার্ড। এখানে ধরে নিচ্ছি তুমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছ।

ধাপ ১: কার্ডের ধরন বাছো

সব দোকানের জন্য স্ট্যাম্প কার্ড ঠিক নয়। ধরন নির্ভর করে তোমার গ্রাহক কীভাবে কেনে তার ওপর:

ধরনকীভাবে চলেকার জন্য
স্ট্যাম্পপ্রতি ভিজিট বা কেনাকাটায় একটা স্ট্যাম্প; পূর্ণ হলে পুরস্কারক্যাফে, সেলুন, আইসক্রিমের দোকান
পয়েন্টখরচ অনুযায়ী পয়েন্ট; পুরস্কারে বদলবেকারি, দোকান, রেস্টুরেন্ট
লেভেলভিত্তিক ডিসকাউন্টবেশি খরচ, বেশি নির্দিষ্ট ছাড়খুব বিশ্বস্ত গ্রাহকের দোকান
ক্যাশব্যাকখরচের একটা অংশ দোকানে ব্যালেন্স হয়ে ফেরেরেস্টুরেন্ট, বার
গিফট কার্ডউপহারের জন্য কেউ কেনে এমন ব্যালেন্সসব ব্যবসা, বিশেষ করে ঈদ আর পূজার সময়
সাবস্ক্রিপশন বা ক্লাবনির্দিষ্ট ফি-তে ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত (“মাসে ২টি চুল কাটা”)সেলুন, জিম, ক্যাফে

দ্রুত নিয়ম: কেনাকাটা প্রতিবার একই রকম হলে স্ট্যাম্প; বিল অনেক বদলালে পয়েন্ট। উদাহরণসহ ব্যাখ্যা আছে পয়েন্ট, স্ট্যাম্প না ক্যাশব্যাক লেখায়।

Stampaz-এ একসঙ্গে কয়েকটা কার্ড চালানো যায় (যেমন কফির জন্য স্ট্যাম্প আর একটা গিফট কার্ড), তবে শুরু করো একটা দিয়ে। প্রথম দিনেই দুটো কার্ড গ্রাহক আর স্টাফ দুজনকেই গুলিয়ে দেয়।

ধাপ ২: নিয়ম আর পুরস্কার ঠিক করো (হিসাবসহ)

প্রোগ্রাম এখানেই সফল বা ব্যর্থ হয়। খুব ছোট পুরস্কার উৎসাহ দেয় না, খুব বড় পুরস্কার মার্জিন খেয়ে ফেলে। কিছু প্রিন্টের আগে হিসাব করো।

আসল ছাড় বের করো

উদাহরণ (ক্যাফে): ১০টি কফিতে স্ট্যাম্প = ১টি কফি ফ্রি। গ্রাহক ১০টার দাম দেয় আর ১১টা নেয়। আসল ছাড় ১১-তে ১, মানে প্রায় ৯%। আর তোমার আসল খরচ কফির বিক্রয়মূল্য নয়, তার উৎপাদন খরচ (কফি, দুধ, কাপ): অনেক কম।

উদাহরণ (সেলুন): ৬টি চুল কাটা = সপ্তমটা ফ্রি। আসল ছাড় ৭-এ ১, প্রায় ১৪%। মার্জিনে কুলালে ঠিক আছে; না হলে ৮টি করো বা পুরস্কার কম খরচের সার্ভিসে বদলাও (দাড়ি ছাঁটা, ছোট কোনো পণ্য)।

উদাহরণ (বেকারি, পয়েন্ট): প্রতি ৳১০-এ ১ পয়েন্ট, ৫০ পয়েন্ট = ৳৩০-এর একটা পেস্ট্রি। গ্রাহক প্রতি ৳৫০০-তে ৳৩০ ফেরত পায়: ৬%।

গতি ঠিক করো

মূল প্রশ্ন: নিয়মিত গ্রাহকের পুরস্কার পেতে কত সময় লাগে? সপ্তাহে দুবার এলে ১০টি স্ট্যাম্প মানে প্রায় ৫ সপ্তাহ: ঠিক আছে। মাসে একবার এলে (সেলুন) ১০টি চুল কাটা মানে প্রায় এক বছর: অনেক বেশি। মোটামুটি, ভালো গ্রাহক যেন এক-দুই মাসে পুরস্কার পায়।

নিয়মটা এক বাক্যে লেখো

এক বাক্যে না ধরলে নিয়মটা খুব জটিল। ভালো নিয়ম:

  • “প্রতি কফিতে একটা স্ট্যাম্প। দশটার পর পরেরটা ফ্রি।”
  • “প্রতি ৳১০-এ এক পয়েন্ট। ৫০ পয়েন্টে নাশতা ফ্রি।”
  • “প্রতি চুল কাটায় একটা স্ট্যাম্প। ছয়টায় দাড়ি ছাঁটা ফ্রি।”

ধাপ ৩: কার্ড ডিজাইন করো

কার্ডটা গ্রাহকের ফোনে জিম, সুপারশপ আর ব্যাংক কার্ডের পাশে থাকে। এক নজরে চেনা যেতে হবে।

  • লোগো: ছোট আকারেও যেন পড়া যায়। লোগো খুব লম্বা বা সরু অক্ষরের হলে সরল সংস্করণ চেষ্টা করো।
  • রং: ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্র্যান্ডের রং আর স্পষ্ট কনট্রাস্টের লেখা (গাঢ়র ওপর সাদা বা হালকার ওপর কালো)। বেইজের ওপর ধূসরের মতো মিশ্রণ এড়াও।
  • ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি: ঐচ্ছিক। নিজের পণ্যের ছবি (তোমার কফি, তোমার পাউরুটি, তোমার দোকান) স্টক ছবির চেয়ে ভালো। তার ওপর লেখা যেন না থাকে, কারণ কার্ডে আগে থেকেই লেখা থাকে।
  • তোমার আঁকা স্ট্যাম্প: Stampaz-এ নিজের আইকন স্ট্যাম্প হিসেবে দিতে পারো (কফি বিন, কাঁচি, আইসক্রিম)। ছোট জিনিস, কিন্তু কার্ডটা তোমার মনে হয়।
  • লেবেল: গ্রাহক যে নামে ডাকে সেটাই দাও। “ইউনিট”-এর চেয়ে “কফি”; “ভিজিট”-এর চেয়ে “চুল কাটা”।

একটা সুবিধা যা কাগজে নেই: ডিজাইন বদলালে সব ফোনে নিজে থেকে আপডেট হয়, কারও স্ট্যাম্প, পয়েন্ট বা ব্যালেন্স হারায় না। প্রথমবারেই নিখুঁত হতে হবে না।

ধাপ ৪: QR পোস্টার আর কোথায় লাগাবে

গ্রাহক ফোনের ক্যামেরা দিয়ে QR স্ক্যান করে যুক্ত হয়, দরকারি তথ্য দেয় আর কার্ড রাখে। কয়েক সেকেন্ড। Stampaz প্রিন্টের জন্য পোস্টার বানিয়ে দেয়; তোমার কাজ সেটা চোখে পড়ার জায়গায় লাগানো।

কোথায় কাজ করে:

  • কাউন্টারে, ক্যাশ বা বিকাশের QR-এর পাশে। এখানেই গ্রাহকের হাতে ফোন থাকে।
  • অপেক্ষার জায়গায় (সেলুন, পার্লার, টেবিলের অপেক্ষায় থাকা রেস্টুরেন্ট)। সেখানে ফাঁকা সময় থাকে।
  • টেবিলে, বসে খাওয়ার জায়গা হলে। ছোট স্ট্যান্ডই যথেষ্ট।
  • কাচে বা শাটারে, যাতে ঢোকার আগেই লোকে দেখে।

কোথায় কাজ করে না: কাউন্টারের পেছনে, দুই মিটার উঁচুতে, বা এমন দেয়ালে যেখানে কেউ যায় না। স্ক্যান করতে গ্রাহককে অনুমতি চাইতে হলে তুমি তাকে হারিয়ে ফেলেছ।

ধাপ ৫: তোমার টিম কীভাবে ব্যবহার করবে

রোজ স্টাফের কাজ একটাই: ফোন দিয়ে গ্রাহকের কার্ড স্ক্যান করে স্ট্যাম্প, পয়েন্ট বা ব্যালেন্স দেওয়া। Stampaz-এ যেকোনো ফোন চলে, অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপ ছাড়া, আর দুবার স্ক্যান থেকে সুরক্ষা আছে যাতে ভুল করে দুটো স্ট্যাম্প না পড়ে।

কার্ড চালুর আগে টিমের সঙ্গে পাঁচ মিনিট এটা করো:

  1. প্রত্যেকে একটা পরীক্ষা করুক: নিজের ফোনে যুক্ত হওয়া, একটা স্ট্যাম্প, একটা রিডিম।
  2. ঠিক করো “একটা কেনাকাটা” মানে কী: পার্সেল আর বসে খাওয়া কফি কি দুটো স্ট্যাম্প? ৳৩০-এর কেনাকাটায় কি স্ট্যাম্প পাবে? এখনই ঠিক করো, গ্রাহকের সামনে নয়।
  3. ফোন সঙ্গে না থাকলে কী হবে ঠিক করো: সাধারণত “পরের বার যোগ করে দেব”। কে কাউন্টারে আছে তার ওপর নির্ভর করে আলাদা ছাড়ের চেয়ে একটা পরিষ্কার নিয়ম ভালো।

প্রথম দুই সপ্তাহ: কাউন্টারে কী বলবে

কার্ড নিজে নিজের প্রচার করে না। প্রথম দুই সপ্তাহই ঠিক করে এটা চলবে, নাকি ভুলে যাওয়া পোস্টার হয়ে থাকবে।

কাউন্টারের কথা

ছোট, আর সুবিধাটা আগে। যেমন:

  • “আমাদের কার্ড আছে? QR স্ক্যান করো, দশটা কফির পর একটা আমাদের পক্ষ থেকে।”
  • “এই QR দিয়ে কার্ডটা ফোনে রেখে দাও; ছয় নম্বর চুল কাটায় দাড়ি ফ্রি।”

পুরো টিম, প্রত্যেক গ্রাহককে, দুই সপ্তাহ ধরে বলুক। তারপর নিজে থেকেই চলতে থাকে।

প্রথম স্ট্যাম্পের ধাক্কা

যা কাজ করে: যুক্ত হলেই প্রথম স্ট্যাম্প উপহার। ১০-এর মধ্যে ১ দিয়ে শুরু হওয়া কার্ড খালি কার্ডের চেয়ে পুরস্কারের বেশি কাছে মনে হয়।

প্রথম নোটিফিকেশন

এক সপ্তাহ বা দশ দিন পর, কার্ডধারী গ্রাহকের একটা দল তৈরি হলে, লক স্ক্রিনে প্রথম push নোটিফিকেশন পাঠাও। কাজের কথা, সাধারণ বিজ্ঞাপন নয়: “এই সপ্তাহে বিকেলে ডাবল স্ট্যাম্প” বা “ঈদের অর্ডার নেওয়া শুরু”। Local প্ল্যানে মাসে ৪টি নোটিফিকেশন; প্রতিটা স্ট্যাম্প বা পুরস্কারের স্বয়ংক্রিয় আপডেট এই সীমায় গোনা হয় না।

সাধারণ ভুল

  • নাগালের বাইরে পুরস্কার। সপ্তাহে একবার আসা গ্রাহকের জন্য ২০ স্ট্যাম্পে একটা কফি: কেউ শেষ করে না।
  • ছোট হরফের শর্ত। “ছুটির দিন বাদে, অফারের পণ্য বাদে…”। প্রতিটা ব্যতিক্রম আগ্রহ কমায়।
  • লুকোনো পোস্টার। গ্রাহক যেখানে টাকা দেয় সেখান থেকে QR না দেখা গেলে, সেটা না থাকার মতোই।
  • প্রশিক্ষণহীন স্টাফ। কাউন্টারের লোক স্ক্যান করতে না জানলে বা বলেই না, কার্ড চলবে না।
  • সারাক্ষণ নোটিফিকেশন। বিরক্ত করলে গ্রাহক নোটিফিকেশন বন্ধ করবে বা কার্ড মুছে দেবে।
  • ডেটা না দেখা। চার সপ্তাহ পর দেখো কটা কার্ড হলো আর কটা পুরস্কার রিডিম হলো। প্রায় কেউ পুরস্কারে না পৌঁছালে সহজ করো।

চালুর আগের চেকলিস্ট

  • গ্রাহক কীভাবে কেনে সেই অনুযায়ী কার্ডের ধরন বাছা।
  • নিয়ম এক বাক্যে লেখা।
  • পুরস্কারের আসল খরচ হিসাব করা (শতাংশ আর পণ্যের খরচ)।
  • গতি যাচাই: নিয়মিত গ্রাহক এক-দুই মাসে পুরস্কারে।
  • লোগো পড়া যায়, রঙে ভালো কনট্রাস্ট, লেবেল তোমার ভাষায়।
  • QR পোস্টার প্রিন্ট করে কাউন্টারের পাশে লাগানো।
  • টিম প্রশিক্ষিত: পরীক্ষা হয়েছে আর স্ট্যাম্পের নিয়মে সবাই একমত।
  • প্রথম দুই সপ্তাহের কাউন্টারের কথা ঠিক করা।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম নোটিফিকেশন ভেবে রাখা।

তোমার ব্যবসা নির্দিষ্ট কোনো খাতের হলে ক্যাফে, সেলুন, বেকারি বা রেস্টুরেন্ট-এর পেজে সেই অনুযায়ী আইডিয়া আর উদাহরণ আছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আজই আপনার ডিজিটাল লয়্যালটি কার্ড তৈরি করুন।

৫ মিনিটে তৈরি · কোনো বাধ্যবাধকতা নেই